রোজা কি ও কার ওপর ফরজ?
ইসলামিক শরিয়তের পরিভাষায়, সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে সকল প্রকার পানাহার, ধূমপান এবং ইন্দ্রিয়সুখ থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলা হয়।
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলি:
- মুসলিম হওয়া
- প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া
- শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া
- মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) হওয়া (মুসাফিরের জন্য রোজা কাজা করার সুযোগ রয়েছে)
- নারীদের হায়েজ ও নিফাস থেকে পবিত্র থাকা
সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজার নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّي اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
ইফতারের সুন্নাহ দোয়া
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: জাহাবায জামা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূরীভূত হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব নির্ধারিত হলো। (সুনানে আবু দাউদ ২৩৫৭)
রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত
🌟 তাকওয়া অর্জন
রোজা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা তথা তাকওয়া অর্জন করা। কুরআন বলে: "যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)
🎁 আল্লাহর দেওয়া বিশেষ প্রতিদান
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন: "রোজা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই দেব।" (সহীহ বুখারী ১৯০৪)
🚪 রাইয়ান দরজায় প্রবেশ
জান্নাতে 'রাইয়ান' নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে কিয়ামতের দিন কেবল রোজাদার ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবেন।
🛡️ জাহান্নাম থেকে সুরক্ষার ঢাল
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "রোজা হলো গুনাহ ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার একটি মজবুত ঢাল।" (সহীহ মুসলিম)
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়
নিচের যেকোনো কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হলে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা ও ক্ষেত্রবিশেষে কাফফারা ওয়াজিব হয়:
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা বা কোনো খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা।
ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা।
সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর সেহরি খাওয়া বা সূর্যাস্তের পূর্বেই ইফতার করা।
কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় পেটের ভেতর পানি চলে যাওয়া।
ধূমপান, হুক্কা বা তামাক গ্রহণ করা।
পুষ্টিকর ইনজেকশন বা স্যালাইন যা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
কাজা ও কাফফারা
কাজা কাকে বলে?
শরিয়তসম্মত কোনো ওজর (যেমন অসুস্থতা, সফর বা ঋতুস্রাব) কারণে রোজা ভেঙে গেলে বা রাখতে না পারলে পরবর্তীতে প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একটি করে রোজা রাখাকে কাজা বলে।
কাফফারা কি?
কোনো বৈধ কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেললে শাস্তি হিসেবে একটি রোজার পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা আহার করানোকে কাফফারা বলে।