৫ ওয়াক্ত নামাজের রাকাতের হিসাব
দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব ও নফল রাকাতের পূর্ণ বিবরণ:
| ওয়াক্ত | সুন্নতে মুয়াক্কাদা | ফরজ | সুন্নতে জায়েদা / নফল | ওয়াজিব (বিতর) | মোট |
|---|---|---|---|---|---|
| ফজর | ২ রাকাত (আগে) | ২ রাকাত | - | - | ৪ রাকাত |
| যোহর | ৪ (আগে) + ২ (পরে) | ৪ রাকাত | ২ রাকাত (নফল) | - | ১২ রাকাত |
| আসর | - | ৪ রাকাত | ৪ রাকাত (নফল) | - | ৮ রাকাত |
| মাগরিব | ২ রাকাত (পরে) | ৩ রাকাত | ২ রাকাত (আউওয়াবীন) | - | ৭ রাকাত |
| এশা | ২ রাকাত (পরে) | ৪ রাকাত | ৪ (আগে) + ২ (নফল) | ৩ রাকাত (বিতর) | ১৭ রাকাত |
| জুমু'আ (শুক্রবার) | ৪ (আগে) + ৪ (পরে) | ২ রাকাত | ২ রাকাত (নফল) | - | ১৪ রাকাত |
অজু করার সঠিক ধারাবাহিক নিয়ম
অজুর ৪টি ফরজ ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতসমূহ
নিয়ত ও বিসমিল্লাহ
মনে মনে অজুর নিয়ত করে "বিসমিল্লাহ" বলে শুরু করা।
দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করা
উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ৩ বার উত্তমরূপে ধোয়া এবং আঙ্গুল খেলাল করা।
কুলি করা ও মেসওয়াক
ডান হাতে পানি নিয়ে ৩ বার কুলি করা এবং দাঁত পরিষ্কার করা।
নাকে পানি দেওয়া ও পরিষ্কার করা
ডান হাত দিয়ে নাকে ৩ বার পানি টেনে নেওয়া ও বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করা।
সমস্ত মুখমণ্ডল ধোয়া (ফরজ)
কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত ৩ বার ধোয়া।
দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া (ফরজ)
প্রথমে ডান হাত কনুইসহ ৩ বার, পরে বাম হাত কনুইসহ ৩ বার ধোয়া।
মাথা মাসেহ করা (ফরজ)
ভেজা হাত দিয়ে পুরো মাথা একবার মাসেহ করা এবং কানের ভেতর ও পিঠ মাসেহ করা।
দুই পা টাখনুসহ ধোয়া (ফরজ)
প্রথমে ডান পা টাখনুসহ ৩ বার এবং পরে বাম পা টাখনুসহ ৩ বার আঙ্গুল খেলাল করে ধোয়া।
নামাজ আদায়ের ধারাবাহিক অঙ্গভঙ্গি (ধাপে ধাপে)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক প্রতিটি রুকনের সঠিক পদ্ধতি
তাকবীরে তাহরীমা ও কিয়াম
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে "আল্লাহু আকবার" বলে দুই হাত কান বরাবর উঠিয়ে হাত বাঁধবেন। এরপর ছানা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা তিলাওয়াত করুন।
রুকুতে অবনত হওয়া
"আল্লাহু আকবার" বলে মাথা ও পিঠ সমান অনুভূমিক রেখে ঝুঁকবেন। দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু শক্ত করে চেপে ধরবেন। ৩ বার "সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম" পাঠ করুন।
রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
"সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে রুকু থেকে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলুন এবং স্থির হোন।
সিজদাবনত হওয়া
"আল্লাহু আকবার" বলে মাটিতে কপাল, নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের আঙ্গুল দৃঢ়ভাবে স্থাপন করুন। ৩ বার "সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা" পাঠ করুন।
দুই সিজদার মাঝের বৈঠক
"আল্লাহু আকবার" বলে শান্তভাবে উঠে বসুন। বাম পায়ের ওপর বসবেন ও ডান পা খাড়া রাখবেন। বলুন: "রব্বিগফির লী" (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন)। এরপর ২য় সিজদা করুন।
শেষ বৈঠক ও সালাম
শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দুরূদে ইব্রাহিম ও দো'আয়ে মাছুরা পড়া শেষ করে প্রথমে ডানে ও পরে বামে চেহারা ফিরিয়ে বলুন: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ"।
নামাজে পঠিত জরুরি তাসবীহ ও দো'আ
সহীহ নিয়মে আরবী তিলাওয়াত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
ছানা (তাকবীরে তাহরীমার পর)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতীব উচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই।
রুকুর তাসবীহ ও ওঠার দো'আ
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
রুকুর তাসবীহ (৩ বার): সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি)।
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ • رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
ওঠার সময়: সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ (যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)।
সোজা হয়ে: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা শুধুই আপনার)।
সিজদার তাসবীহ (কমপক্ষে ৩ বার)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى
উচ্চারণ: সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা।
অর্থ: আমার সর্বোচ্চ মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু)
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-ত্বইয়্যিবাতু, আস-সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান-নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস-সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস-সালিহীন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
অর্থ: যাবতীয় সম্মান ও মৌখিক ইবাদত, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত সবই আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
দুরূদে ইব্রাহিম
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত আপনি বর্ষণ করেছিলেন ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন, যেমন বরকত দান করেছিলেন ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
দো'আয়ে মাছুরা
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী জালামতু নাফসী জুলমান কাছীড়া, ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনূবা ইল্লা আনতা, ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর বহু অত্যাচার করেছি। আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। অতএব আপনি আমাকে নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করে দিন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু।
দো'আয়ে কুনূত (বিতর নামাজে পঠিত)
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ، اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তা‘ঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা ওয়া নুছনী ‘আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলা‘উ ওয়া নাতরুকু মাইঁ ইয়াফজুরুক। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লী ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস‘আ ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা ‘আযাবাকা, ইন্না ‘আযাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক্ব।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করছি, আপনার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি, আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি এবং আপনারই ওপর ভরসা রাখছি। আমরা আপনার উত্তম প্রশংসা করছি, আপনার শুকরিয়া আদায় করছি এবং অকৃতজ্ঞ হচ্ছি না। যারা আপনার অবাধ্য আমরা তাদের ত্যাগ করি। হে আল্লাহ! আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি, আপনার জন্যই নামাজ পড়ি এবং সিজদা করি। আপনার সান্নিধ্য লাভের জন্যই চেষ্টা করি। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় পাই। নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফেরদের ওপর পতিত হবে।
নামাজের ১৪টি ফরজ (আহকাম ও আরকান)
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত ও রুকনসমূহ
নামাজের বাহিরের ৭টি ফরজ (আহকাম)
- শরীর পবিত্র হওয়া।
- পোশাক বা কাপড় পবিত্র হওয়া।
- নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া।
- সতর ঢাকা (পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু এবং নারীর মুখ, হাত ও পা বাদে পুরো শরীর)।
- কিবলামুখী হওয়া।
- নামাজের সঠিক ওয়াক্ত হওয়া।
- মনে মনে নির্দিষ্ট ওয়াক্তের নিয়ত করা।
নামাজের ভিতরের ৭টি ফরজ (আরকান)
- তাকবীরে তাহরীমা ("আল্লাহু আকবার" বলে নামাজ শুরু করা)।
- দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া (কিয়াম)।
- কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা (কিরাত)।
- রুকু করা।
- প্রতি রাকাতে দুই সিজদা করা।
- শেষ বৈঠকে বসা (তাশাহহুদ পরিমাণ সময়)।
- সালামের মাধ্যমে নামাজ সমাপ্ত করা।