কালেমা কি?
কালেমা হলো ইসলামের মূল প্রবেশদ্বার। এটি একটি পবিত্র ঘোষণা যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত ও রিসালাতের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস স্থাপন করে। অন্তরে বিশ্বাস এবং মুখে এ ঘোষণার মাধ্যমেই একজন মানুষ ইসলামের সীমানায় প্রবেশ করে।
কালেমা তাইয়্যেবা
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
"আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।"
কালেমা শাহাদাত
উচ্চারণ: আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।"
কালেমা তামজীদ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল ‘আলিইল ‘আযীম।
"আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। সুউচ্চ মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত পাপ থেকে বিরত থাকার এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি কারও নেই।"
কালেমা তাওহীদ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
"আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল রাজত্ব ও সমস্ত প্রশংসা শুধুই তাঁর। তাঁর হাতেই সমস্ত কল্যাণ এবং তিনি সকল বিষয়ের ওপর চির সর্বশক্তিমান।"
কালেমার তাৎপর্য ও ফজিলত
ঈমানের শিকড়
কালেমা ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না। এটি এমন এক বীজ যা মানুষের অন্তরে ঈমানী তাগিদ ও পবিত্র চরিত্র গঠন করে।
জান্নাতের চাবিকাঠি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (সুনানে আবু দাউদ)
শিরকমুক্তির ঘোষণা
এটি মানুষের শিরক ও কুফর থেকে মুক্তির পথ এবং তাওহীদের ছায়াতলে একনিষ্ঠ হওয়ার আজীবন অঙ্গীকার।
অন্তর ও জীবনের প্রশান্তি
একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেওয়ার মাধ্যমে দুনিয়ার সমস্ত ভীতি ও গোলামি থেকে মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করে।