ইসলামের ৫ম স্তম্ভ

পবিত্র হজ ও উমরাহ গাইড

আল্লাহর পবিত্র ঘরের জিয়ারত ও বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের শ্রেষ্ঠ মিলনমেলা।

তালবিয়া পড়ুন ও শুনুন হজের ফরজ ও ওয়াজিব হজের ৫ দিনের কর্মসূচি →

হজ কি ও কার ওপর ফরজ?

হজ হলো নির্দিষ্ট দিনসমূহে (৮ই জিলহজ্জ থেকে ১২ই জিলহজ্জ পর্যন্ত) নির্দিষ্ট নিয়মে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাবা শরীফ এবং মক্কার সংলগ্ন আরাফাত, মিনা ও মুযদালিফায় নির্ধারিত ইবাদত সম্পাদন করা। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

হজ ফরজ হওয়ার প্রধান শর্তাবলি:

  • ✓ মুসলিম হওয়া
  • ✓ বিবেকবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া
  • ✓ শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতা থাকা
  • ✓ যাতায়াত ও অবস্থান খরচের সামর্থ্য থাকা
  • ✓ পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত থাকা
  • ✓ যাতায়াতের পথ নিরাপদ থাকা

তালবিয়া (হজের মূল ধ্বনি)

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ

উচ্চারণ:

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।

অর্থ:

আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির! আপনার দরবারে আমি উপস্থিত! আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাজির! নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, সকল নিয়ামত এবং সমগ্র রাজত্ব কেবল আপনারই, আপনার কোনো শরীক নেই।

হজের ৩টি ফরজ ও ৬টি ওয়াজিব

ফরজ

হজের ৩টি ফরজ

ফরজ কোনো একটি ছুটে গেলে হজ আদায় হবে না, দম বা কোরবানি দিয়েও তা পূরণ করা যায় না:

  1. ইহরাম বাঁধা: হজের নিয়ত করে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে ইহরামে প্রবেশ করা।
  2. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান: ৯ই জিলহজ্জ দ্বিপ্রহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। (হজের প্রধান রুকন)।
  3. তাওয়াফে যিয়ারত: ১০ই জিলহজ্জ সকাল থেকে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাবা শরীফ তাওয়াফ করা।
ওয়াজিব

হজের ৬টি ওয়াজিব

ভুলবশত কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে 'দম' (পশু কোরবানি) দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে হয়:

  1. ৯ই জিলহজ্জ দিবাগত রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা।
  2. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সা'ঈ (দৌড়ানো) করা।
  3. ১০, ১১ ও ১২ই জিলহজ্জ মিনায় জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করা।
  4. হজে তামাত্তু ও কিরানকারীদের জন্য দমে শোকর (কোরবানি) করা।
  5. মাথা মুণ্ডন করা (হলক) বা চুল ছোট করা (কসর)।
  6. মক্কার বাইরের লোকদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে বিদা) করা।

হজের ৩টি প্রকারভেদ

১

হজে তামাত্তু

হজের মাসসমূহে প্রথমে কেবল উমরাহর ইহরাম বেঁধে তা সম্পন্ন করে ইহরাম খুলে ফেলা। এরপর ৮ই জিলহজ্জ নতুন করে হজের ইহরাম বেঁধে হজ পালন করা। (বাংলাদেশীদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত)।

২

হজে কিরান

একসাথে উমরাহ ও হজ উভয়ের নিয়তে ইহরাম বাঁধা। উমরাহ শেষে ইহরাম না খুলে একই ইহরামে ৮ই জিলহজ্জ থেকে হজের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা।

৩

হজে ইফরাদ

উমরাহ ছাড়া শুধুমাত্র হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং হজের কার্যাবলি সম্পন্ন করা। এতে কোরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়।

হজের ৫ দিনের ধারাবাহিক কার্যাবলি

৮ই জিলহজ্জ

মিনায় যাত্রা ও রাতযাপন

ইহরাম পরিধান করে মক্কার মিনা প্রান্তরে পৌঁছানো এবং সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ৯ই জিলহজ্জের ফজর সালাত আদায় করে রাতযাপন করা (সুন্নাত)।

৯ই জিলহজ্জ

আরাফাত ও মুযদালিফা (হজের শ্রেষ্ঠ দিন)

ফজরের পর আরাফাতের ময়দানে গমণ ও সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান (হজের ফরজ)। সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়ে মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করা, কঙ্কর সংগ্রহ করা এবং খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করা।

১০ই জিলহজ্জ

বড় জামারায় কঙ্কর, কোরবানি, হলক ও তাওয়াফ

মুযদালিফা থেকে মিনায় এসে বড় শয়তানকে ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা, পশু জবাই (কোরবানি) করা, মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম শেষ করা এবং কাবা শরীফে গিয়ে ফরজ তাওয়াফে যিয়ারত ও সাফা-মারওয়া সা'ঈ সম্পন্ন করা।

১১ ও ১২ই জিলহজ্জ

তিনটি জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ ও বিদায়ী তাওয়াফ

মিনায় অবস্থান করে প্রতিদিন দুপুরে ছোট, মধ্যম ও বড় শয়তানকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা। ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করে মক্কায় ফিরে আসা এবং নিজ দেশে ফেরার পূর্বে তাওয়াফে বিদা আদায় করা।